
কক্সবাজারের দ্বীপ উপজেলা মহেশখালীতে বাড়ছে ডেঙ্গুর প্রকোপ। রোগীর চাপ বেড়ে যাওয়ায় উপজেলার ৫০ শয্যার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দেখা দিয়েছে তীব্র শয্যা ও স্থানসংকট। শয্যা না পেয়ে হাসপাতালের বারান্দা, চলাচলের পথ ও মেঝেতে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে অনেক রোগীকে। জনবল, ওষুধ ও চিকিৎসাসামগ্রীর সীমাবদ্ধতার মধ্যে অতিরিক্ত রোগীর চাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা। এর মধ্যে ডেঙ্গুতে এক কলেজছাত্রের মৃত্যুর খবর এলাকায় উদ্বেগ বাড়িয়েছে।
সোমবার (১২ অক্টোবর) উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সরেজমিনে দেখা যায়, রোগীর চাপে হাসপাতালের বিভিন্ন স্থানে ভিড় জমেছে। শয্যা না পেয়ে অনেক রোগী বারান্দা ও মেঝেতে চাদর বিছিয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন। ল্যাবরেটরি ও ওষুধ বিতরণকেন্দ্রের সামনেও রয়েছে রোগীদের দীর্ঘ সারি।
হাসপাতাল কর্মীরা জানান, জনবল ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসামগ্রীর সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও চিকিৎসকেরা দিনরাত সেবা দিচ্ছেন। অতিরিক্ত রোগীর চাপে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। জরুরি ভিত্তিতে চিকিৎসক, নার্স ও প্রয়োজনীয় ওষুধের বরাদ্দ বাড়ানো না হলে সংকট আরও বাড়তে পারে।
মহেশখালী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মাহফুজুল হক জানান, দেশের অন্যান্য এলাকার মতো মহেশখালীতেও ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। বিশেষ করে পানের বরজে কাজ করা শ্রমিক ও মাঠপর্যায়ের শ্রমজীবী মানুষের মধ্যে আক্রান্তের প্রবণতা বেশি দেখা যাচ্ছে। উপজেলার ছোট মহেশখালী, শাপলাপুর ও হোয়ানক ইউনিয়নে রোগীর সংখ্যা বাড়ছে বলেও জানান তিনি।
তিনি বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে নিয়মিত সচেতনতামূলক প্রচার চালানোর পাশাপাশি সাধ্যমতো চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে। হাসপাতালের নিজস্ব পরীক্ষাগারে মে থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ১ হাজার ১৮৪ জনের ডেঙ্গু শনাক্ত হয়েছে। এ সময় অন্তর্বিভাগে চিকিৎসা নিয়েছেন ৩০৯ জন। বেসরকারি ও অন্যান্য পরীক্ষাগারে শনাক্ত রোগীদের হিসাব যুক্ত হলে আক্রান্তের প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে।
ঝুঁকিপূর্ণ এ সময়ে সবাইকে সচেতন থাকার পাশাপাশি শিশু ও বয়স্কদের স্বাস্থ্যের প্রতি বাড়তি নজর দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
জানা গেছে, গত ৫ অক্টোবর ছোট মহেশখালী ইউনিয়নের মুজাহিদ নামের এক কলেজছাত্র ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। তাঁর মৃত্যুর পর এলাকায় ডেঙ্গু নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে।
স্থানীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে কক্সবাজার জেলাজুড়েও ডেঙ্গুর প্রকোপ বেড়েছে। দ্বীপ উপজেলা হওয়ায় মহেশখালী থেকে গুরুতর রোগীকে দ্রুত জেলা সদর হাসপাতালে নেওয়া অনেক সময় কঠিন ও ব্যয়বহুল হয়ে পড়ে। এতে স্থানীয় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হচ্ছে।
স্থানীয়দের মতে, ডেঙ্গু পরিস্থিতি মোকাবিলায় হাসপাতালের শয্যাসংখ্যা ও জনবল বাড়ানো, পর্যাপ্ত ওষুধ ও পরীক্ষার উপকরণ নিশ্চিত করা এবং ইউনিয়ন পর্যায়ে মশা নিয়ন্ত্রণ ও জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম জোরদার করা জরুরি। দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপের মাধ্যমে ডেঙ্গুর বিস্তার নিয়ন্ত্রণ এবং সংকটাপন্ন রোগীদের সময়মতো চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার প্রত্যাশা তাঁদের।